বৃহস্পতিবার । ২১শে মে, ২০২৬ । ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

‘ইউরেনিয়াম থাকবে ইরানেই’, খামেনির বার্তায় চাপে ওয়াশিংটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অবশ্যই ইরানেই রাখতে হবে। ইরানের সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো যাবে না। এই নির্দেশনার ফলে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবির বিপরীতে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও হতাশ করতে পারে এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা জটিল করে তুলতে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, ট্রাম্প ইসরায়েলকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ইরানের বাইরে পাঠানো হবে এবং যেকোনো শান্তিচুক্তিতে এ বিষয়ে একটি ধারা থাকতে হবে।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে ইরান ইউরেনিয়ামকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরানো না হবে, তেহরান তার মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ না করবে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে বিবেচনা করবেন না।

দুই ইরানি সূত্রের একজন বলেন, “সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য হলো— সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশ থেকে বাইরে নেওয়া যাবে না।” বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, এই উপাদান বিদেশে পাঠানো হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার মুখে দেশটি আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা খামেনির হাতেই রয়েছে।

হোয়াইট হাউস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর সন্দেহ
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধ শুরু হয়, তার পর বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে হামলা চালায় এবং লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

তবে শান্তি প্রচেষ্টায় এখনো বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ।

দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের মধ্যে গভীর সন্দেহ রয়েছে যে যুদ্ধবিরতি আসলে ওয়াশিংটনের একটি কৌশলগত প্রতারণা, যার উদ্দেশ্য নিরাপত্তার ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করে পরে আবার বিমান হামলা শুরু করা।

ইরানের প্রধান শান্তি আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বুধবার বলেন, “শত্রুর প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা” প্রমাণ করছে যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্রাম্প বুধবার বলেন, ইরান যদি শান্তিচুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে আরও হামলা চালাতে প্রস্তুত। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে “সঠিক উত্তর” পাওয়ার জন্য ওয়াশিংটন কয়েকদিন অপেক্ষা করতে পারে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, উভয় পক্ষ কিছু মতপার্থক্য কমাতে শুরু করেছে, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর বিভেদ এখনো রয়ে গেছে— বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার স্বীকৃতির দাবিতে।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান
ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, তেহরানের প্রধান অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা চালাবে না— এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা পাওয়া।

তাদের মতে, শুধুমাত্র এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত হবে।

সূত্র: রয়টার্স

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন